শ্রীকৃষ্ণ
শ্রীকৃষ্ণ

শ্রী রাধা কৃষ্ণের প্রণাম

শ্রীশ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম

❁

১০৮ নাম, চৌত্রিশ পদাবলী ও শুক শারীর দ্বন্দ্ব —
ভক্তি ভরে শ্রীকৃষ্ণের নাম সংকীর্তন

পড়তে শুরু করুন ↓
❁

শ্রীশ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম

১০৮ নাম

জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর ।

কৃষ্ণ চন্দ্র কর দয়া করুণা সাগর॥

জয় রাধে গোবিন্দ গোপাল বনমালী ।

শ্রীরাধার প্রাণধন মুকুন্দ মুরারী॥

হরিনাম বিনের ভাই গোবিন্দ নাম বিনে ।

বিফলে মনুষ্য জন্ম যায় দিনে দিনে॥

দিন গেল মিছে কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে ।

না ভজিনু রাধাকৃষ্ণের চরণারবিন্দে॥

কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু ।

মিছে মায়ায় বন্ধ হ'য় বৃক্ষসম হৈনু॥

ফলরূপে পুত্র কন্যা ডাল ভাঙ্গি পড়ে ।

কালরূপে সংসারেতে পক্ষী বাসা করে॥

যখন কৃষ্ণ জন্ম নিলেন দেবকীর উদরে ।

মথুরাতে দেবগণ পুষ্প বৃষ্টি করে॥

বসুদেব রাখি আইল নন্দের মন্দিরে ।

নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে॥

১শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন ।
২যশোদা রাখিল নাম যাদু বাচাধন॥
৩উপানন্দ নাম রাখে সুন্দর গোপাল ।
৪ব্রজবালক নাম রাখে ঠাকুর রাখাল॥
৫সুবল রাখিল নাম ঠাকুর কানাই।
৬শ্রীদাম রাখিল নাম রাখাল রাজা ভাই॥
৭ননীচোরা নাম রাখে যতেক গোপিনী।
৮কালসোনা নাম রাখে রাধা বিনোদিনী॥
৯কুজা রাখিল নাম পতিত পাবন হরি।
১০চন্দ্রাবলী নাম রাখে মোহন বংশীধারী॥
১১অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া।
১২কৃষ্ণ নাম রাখে গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া॥
১৩কর্ণমুনি নাম রাখে দেব চক্রপাণি।
১৪বনমালী নাম রাখে বনের হরিণী॥
১৫গজহস্তী নাম রাখে শ্রীমধুসূদন।
১৬অজামিল নাম রাখে দেব নারায়ণ॥
১৭পুরন্দর নাম রাখে দেব শ্রীগোবিন্দ।
১৮দ্রৌপদী রাখিল নাম দেব দীনবন্ধু।
১৯সুদাম নাম রাখে দারিদ্র-ভঞ্জন।
২০ব্রজবাসী নাম রাখে ব্রজের জীবন॥
২১দর্পহারি নাম রাখে অর্জুন সুধীর।
২২পশুপতি নাম রাখে গরুড় মহাবীর॥
২৩যুধিষ্ঠির নাম রাখে দেব যদুবর।
২৪বিদুর রাখিল নাম কাঙ্গালের ঠাকুর॥
২৫বাসুকী রাখিল নাম দেব সৃষ্টি স্থিতি।
২৬ধ্রুবলোক নাম রাখে ধ্রুবের সারথি॥
২৭নারদ রাখিল নাম ভক্ত প্রাণধন।
২৮ভীষ্মদেব রাখে নাম লক্ষ্মী নারায়ণ॥
২৯সত্যবামা নাম রাখে সত্যের সারথি।
৩০জাম্ববতী নাম রাখে দেব যোদ্ধাপতি॥
৩১বিশ্বামিত্র নাম রাখে সংসারের সার।
৩২অহল্যা রাখিল নাম পাষাণ উদ্ধার॥
৩৩ভৃগুমুনি নাম রাখে জগতের হরি।
৩৪পঞ্চমুখে রাম নাম গান ত্রিপুরারি॥
৩৫কুঞ্জকেশী নাম রাখে বলি সদাচারী।
৩৬প্রহলাদ রাখিল নাম নৃসিংহ-মুরারি॥
৩৭বশিষ্ঠ রাখিল নাম মুনি মনোহর।
৩৮বিশ্ববসু নাম রাখে নব জলধর॥
৩৯রত্নাদেবী নাম রাখে গোবর্ধনধারী।
৪০প্রাণপতি নাম রাখে যত ব্রজ নারী॥
৪১অদিতি রাখিল নাম সারথি সুধন।
৪২গদাধর নাম রাখে যমল-অর্জুন॥
৪৩মহাযোদ্ধা নাম রাখে ভীম মহাবল।
৪৪দয়ানিধি নাম রাখে দরিদ্র সকল॥
৪৫বৃন্দাবন-চন্দ্র নাম রাখে বৃন্দাদুতী।
৪৬বিরজা রাখিল নাম যমুনার পতি॥
৪৭বানীপতি নাম রাখে গুরু বৃহস্পতি।
৪৮লক্ষ্মীপতি নাম রাখে সুমন্ত সারথি॥
৪৯সান্দিপনী নাম রাখে দেব অন্তর্যামী।
৫০পরাশর নাম রাখে ত্রিলোকের স্বামী॥
৫১রঙ্গদেবী নাম রাখে অনঙ্গ মোহন।
৫২চম্পকলতা নাম রাখে শ্রীরাধা রমন॥
৫৩হরেকৃষ্ণ নাম রাখে প্রিয় বলরাম।
৫৪ললিতা রাখিল নাম দুব্বাদল শ্যাম॥
৫৫বিশাখা রাখিল নাম অনঙ্গ মোহন।
৫৬সুচিত্রা রাখিল নাম শ্রীবংশীবদন॥
৫৭আয়ন রাখিল নাম ক্রোধ-নিবারণ।
৫৮চণ্ডুকোশী নাম রাখে কৃতান্ত-শাসন॥
৫৯জ্যোতিষ্ক রাখিল নাম নীলকান্ত মুনি।
৬০গোপীকান্ত নাম রাখে সুদাম ঘরনী॥
৬১ভক্তগণ নাম রাখে দেব জগন্নাথ।
৬২দুর্ব্বাসা রাখেন নাম অনাথের নাথ॥
৬৩রাসেম্বর নাম রাখেন যতেক মালিনী।
৬৪সর্ব্বযজ্ঞেশ্বর নাম রাখেন শিবানী॥
৬৫উদ্ধব রাখিল নাম ভক্ত বাঞ্ছাকারী হরি।
৬৬অক্রুর রাখিল নাম ভব-ভয়হারী॥
৬৭অঞ্জুমালী নাম রাখে নীল পিত বাস।
৬৮সৰ্ব্ববেত্তা নাম রাখে দ্বৈপায়ন ব্যাস॥
৬৯অষ্ঠসখী নাম রাখে ব্রজের ঈশ্বর।
৭০সুরলোকে নাম রাখে অখিলের সার॥
৭১বৃষভানু নাম রাখে পরম ঈশ্বর।
৭২স্বর্গবাসী রাখে নাম দেব পরাৎপর॥
৭৩পুলোমা রাখেন নাম অনাথের সখা।
৭৪রসসিন্ধু নাম রাখে সখী চিত্রলেখা॥
৭৫চিত্ররথ নাম রাখে অরাতি দমন।
৭৬পুলস্ত্য রাখিল নাম নয়ন রঞ্জন॥
৭৭কশ্যপ রাখেন নাম রাস-রাসেশ্বর।
৭৮ইন্দুদেবী নাম রাখে শ্যাম সুন্দর॥
৭৯সুমালী রাখিল নাম পুরুষ প্রধান।
৮০পুরন্দর নাম রাখে ভক্তগণ প্রাণ॥
৮১রজকিনী নাম রাখে নন্দের দুলাল।
৮২আহলাদিনী নাম রাখে ব্রজের গোপাল॥
৮৩দেবকী রাখিল নাম নয়নের মণি।
৮৪জ্যোতিস্ময়ী নাম রাখে যাজ্ঞবল্ক্য মুনি॥
৮৫অত্রিমুনি নাম রাখে কোটি চন্দ্রেশ্বর।
৮৬গৌতম রাখিল নাম দেব বিশ্বম্ভর॥
৮৭কুন্তীদেবী রাখে নাম অনাথের বন্ধু।
৮৮ভীমসেন নাম রাখে করুণার সিন্ধু॥
৮৯ভরদ্বাজ রাখে নাম নিত্য সনাতন।
৯০বলিষ্ট রাখিল নাম দেব জনার্দন॥
৯১ধ্রুব রাখিল নাম পদ্ম পলাশ লোচন।
৯২সিদ্ধার্থ নাম রাখে কপিল তপোধন॥
৯৩ভাণ্ডারী রাখিল নাম অগতির গতি।
৯৪মৎস্যগন্ধা নাম রাখে ত্রিলোকের পতি॥
৯৫শুক্রাচার্য নাম রাখে অখিল বান্ধব।
৯৬বিষ্ণুলোকে নাম রাখে দেব শ্রীমাধব॥
৯৭যুদগণ নাম রাখে যদু কুলপতি।
৯৮অশ্বিনী কুমার নাম রাখে সৃষ্টি-স্থিতি॥
৯৯আর্যমা রাখিল নাম কাল-নিবারণ।
১০০সত্যবতী নাম রাখে অজ্ঞান নাশন॥
১০১পদ্মাঙ্ক রাখিল নাম ভ্রমর-ভ্রমরী।
১০২ত্রিভঙ্গ রাখিল নাম যত সহচরী॥
১০৩বঙ্গচন্দ্র নাম রাখে শ্রীরূপমঞ্জুরী।
১০৪মাধুরী রাখিল নাম গোপী মনোহারী॥
১০৫মঞ্জুমালী নাম রাখে অভীষ্ট পূরণ।
১০৬কুটিলা রাখিল নাম মদন মোহন॥
১০৭মঞ্জুরী রাখিল নাম কর্মব্রহ্ম-নাশ।
১০৮ব্রজবধু নাম রাখে পূর্ণ অভিলাষ॥
✦

নাম মহিমা

নামের মাহাত্ম্য

দৈত্যারী দ্বারিকা নাথ দারিদ্র-ভঞ্জন।

দয়াময় দ্রৌপদীর লজ্জা নিবারণ॥

স্বরূপে সবার হয় গোলকেতে স্থিতি।

বৈকুণ্ঠে ক্ষীরোদশারী কমলার পতি॥

রসময় রসিক নাগর অনুপম।

নিকুঞ্জ বিহারী হরি নব ঘনশ্যাম॥

শালগ্রাম দামোদর শ্রীপতি শ্রীধর।

তারকব্রহ্ম সনাতন পরম ঈশ্বর॥

কল্পতরু কমল লোচন হৃষিকেশ।

পতিত পাবন গুরু জ্ঞান-উপদেশ॥

চিন্তামনি চতুর্ভুজ দেবচক্র পানি।

দীনবন্ধু দেবকী নন্দন যদু মনি॥

অনন্ত কৃষ্ণের নাম অনন্ত মহিমা।

নারদাদি ব্যাসদেব নিতে নারে সীমা॥

নাম ভজ নাম চিন্তা নাম কর সার।

অনন্ত কৃষ্ণের নাম মহিমা অপার॥

শতবার সুবর্ণ গো কোটি কন্যাদান।

তথাপি না হয় কৃষ্ণ নামের সমান॥

যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।

নামের সহিত আছেন আপনি শ্রীহরি॥

শুন শুন ওরে ভাই নাম সংকীর্তন।

যেই নাম শ্রবণে হয় পাপ বিমোচন॥

কৃষ্ণ নাম ভজ ভাই আর সব মিছে।

পলাইতে পথ নাই যম আছে পিছে॥

কৃষ্ণ নাম হরিনাম বড়ই মধুর।

যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর॥

ব্রহ্মা আদি দেব যারে ধ্যানে নাহি পায়।

সে হরি বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়॥

হিরণ্য কশিপুর উদর-বিদারন।

প্রহলাদরে করিল রক্ষা দেব নারায়ণ॥

বলীরে ছলিতে প্রভু হইল বামন।

দৌপদীর লজ্জা 'হরি' কৈল্য নিবারণ॥

অষ্টোত্তর শতনাম যে করে পঠন।

অনায়াসে পায় সে রাধা কৃষ্ণে চরণ॥

ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণ করে নন্দের নন্দন।

মথুরায় কংশ ধ্বংস লঙ্কার রাবণ॥

বকাসুর বধ আদি কালিয়া-দমন।

নরোত্তম কহে এই নাম সংকীর্তন॥

❀

চৌত্রিশ পদাবলী

শ্রীনরোত্তম দাস

ক.কলিযুগে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য অবতার।
খ.খেলিবার প্রবন্ধে কৈল খোল করতাল॥
গ.গড়াগড়ি যায় প্রভু নিজ সংকীর্তনে।
ঘ.ঘরে ঘরে হরি নাম দেন সর্ব্ব জনে॥
ঙ.উচ্চঃস্বরে কাঁদে প্রভু জীবের লাগিয়া।
চ.চেতন করান জীবের কৃষ্ণ নাম দিয়া॥
ছ.ছল ছল করে আঁখি নয়নের জলে।
জ.জগৎ পবিত্র কৈল গৌর কলেবরে॥
ঝ.ঝলমল মুখ যার পূর্ণ শশধর।
ঞ.এমন দেখি নাই দয়ার সাগর॥
ট.টলমল করে অঙ্গ ভাবেতে বিহ্বল।
ঠ.ঠমকে ঠমকে যায় বলে হরি বোল॥
ড.ডোরহি কৌপিন ক্ষীণ কটির উপরে।
ঢ.ঢলিয়া ঢলিয়া পড়ে গদাধরের ক্রোড়ে॥
ণ.আন পর সঙ্গ গৌরা না শুনে শ্রবণে।
ত.তান মান গান রসে মজাইয়া মনে॥
থ.স্থিরনাহি হয় প্রভুর নয়নের জল।
দ.দীন হীন জনের ধরিয়া বলে হরিবল॥
ধ.ধরাইয়া পুরব পিরিতি পরসঙ্গ।
ন.না জানি কাহার ভাবে হইলা ত্রিভঙ্গ॥
প.প্রেম রসে ভাসাইলা অখিল সংসার।
ফ.ফুটিল শ্রীবৃন্দাবন সুরধনী ধার॥
ব.ব্রহ্মা মহেশ্বর যাঁরে করে অন্বেষণ।
ভ.ভাবিয়া না পায় যাঁরে সহস্র বদন॥
ম.মত্ত মাতঙ্গের গতি মৃদু মন্দ হাস।
য.যশোমতি মাতা যাঁর ভুবনে প্রকাশ॥
র.রতিপটি যিনিরূপ অতি মনোরম।
ল.লীলা লাবণ্য যাঁর অতি অনুপম॥
ব.বসুদেব সুত সেই শ্রীনন্দের নন্দন।
শ.শচীন নন্দন এবে বলে সর্ব্বজন॥
ষ.ষড়ভুজ রূপ হৈল অত্যাশ্চর্যময়।
স.সবাকার প্রাণধন মোরা রসময়॥
হ.হরি হরি বল ভাই কর মহাযজ্ঞ।
ক্ষ.ক্ষিতি তলে জন্মি হয় কেহ না হও অভিজ্ঞ॥

চৌত্রিশ পদাবলী যে করে কীর্ত্তন।

দাস নরোত্তম যাচে তাহার চরণ॥

❁

শুক শারীর দ্বন্দ্ব

শুক ও শারীর বিতর্ক

বৃন্দাবন বিলাসিনী রাই আমাদের,

রাই আমাদের, রাই আমাদের॥

আমরা রাইয়ের, রাই আমাদের।

শুক বলে, আমার কৃষ্ণ মদন মোহন॥

শারী বলে, আমার রাধা বামে যতক্ষণ।

নৈলে শুধুই মদন।

শুক বলে, আমার কৃষ্ণ গিরি ধরে ছিল।

শারী বলে, আমার রাধা শক্তি সঞ্চারিল,

নৈলে পারবে কেন।

শুক বলে; আমার কৃষ্ণের চূড়ায় ময়ূর পাখা,

শারী বলে, আমার রাধার নামটি তাতে লেখা।

ঐ যে যার গো দেখা।

শুক বলে, আমার কৃষ্ণের চূড়া বামে হেলে,

শারী বলে, আমার রাধার চরণ পাবে বলে,

চূড়া তাইতো বামে হেলে॥

শুক বলে আমার কৃষ্ণ যশোদার জীবন॥

শারী বলে আমার রাধা জীবনের জীবন

নৈলে শূন্য জীবন।

শুক বলে আমার কৃষ্ণ জগৎ-চিন্তামণি।

শারী বলে, আমার রাধা প্রেম প্রদায়িনী

সে তোমার কৃষ্ণ জানে।

শুক বলে, আমার কৃষ্ণের বাঁশী করে গান।

শারী বলে, সত্য বটে বলে রাধার নাম,

নৈলে মিছাই গান।

শুক বলে; আমার কৃষ্ণ জগতের গুরু

শারী বলে, আমার রাধা বাঞ্ছা কল্পতরু,

নৈলে কে কার গুরু।

শুক বলে, আমার কৃষ্ণ প্রেমের ভিখারী

শারী বলে, আমার রাধা প্রেমের লহরী।

প্রেমের ঢেউ কিশোরী।

শুক বলে, আমার কৃষ্ণের কদম তলায় থানা

শারী বলে, আমার রাধা করে আনা গোনা।

নৈলে যেতো না জানা।

শুক বলে আমার কৃষ্ণ জগতের কালো।

শারী বলে, আমার রাধার রূপে জগৎ আলো।

নৈলে আঁধার কালো।

শুক বলে, আমার কৃষ্ণের শ্রীরাধিকা দাসী।

শারী বলে, সত্য বটে সাক্ষী আছে বাঁশী,

নৈলে হতো কাশী বাসী।

শুক বলে, আমার কৃষ্ণ করে বরিষণ।

শারী বলে, আমার রাধা স্থগিত পবন,

সে যে স্থির পবন।

শুক বলে, আমার কৃষ্ণ জগতের জীবন।

শারী বলে, আমার রাধা জীবনের জীবন,

নৈলে কে কার জীবন, থাকে কি আপন প্রাণ।

শুক বলে, আমার কৃষ্ণ জগত জীবন।

শারী বলে, আমার রাধা মধুর পবন,

নৈলে কি থাকে জীবন।

শুক বলে, আমার কৃষ্ণ গায় প্রেম গান।

শারী বলে, আমার রাধা প্রেম করে দান,

সে যে কৃষ্ণ জীবন।

শুক সারী উভয়ের দ্বন্দ্ব মিঠে গেল।

রাধা কৃষ্ণ প্রীতে একবার হরি হলি বল,

শ্রীবৃন্দাবনে চল।

❀

শ্রীশ্রীরাধার বার মাস

শ্রীশ্রী রাধারানীর আক্ষেপ

মাঘেতে মাধব করে মথুরা গমন,

কৃষ্ণ বিনে অন্ধকার নব বৃন্দাবন।

ফাল্গুনে পূর্ণমা তিথি চিত্তে উঠে রোল,

গোবিন্দ কোকুলে নাই কে করিবে দোল।

চৈত্রেতে চাতক পাখী বসে শ্রীমন্দিরে,

পিউ পিউ রবে ডাকে উচ্চৈঃস্বরে।

বৈশাখতে বিদেশে রব শ্যাম গুণমণি,

আঙ্গিনায় কৃষ্ণ নাই কেবা খাবে লবণী।

জ্যৈষ্ঠতে যমুনার জলে, করে জল কেলি,

কার অঙ্গে দিব জল অঞ্জলি অঞ্জলি।

আষাঢ়ে আসিবে বন্ধু এই ছিল মনে,

কেমনে বাঁচিবে বল গোবিন্দ বিহনে।

শ্রাবণে পূর্ণিমা তিথিতে ঝুলন উৎসবে,

গোকুলে আসিবে কৃষ্ণ আশা ছিল মনে।

ভাদ্র মাসেতে ভরানদী অকুল পাথার,

কেমনে আসিবে প্রাণনাথ না জানে সাঁতার।

আশ্বিন মাসে অম্বিকা পূজা প্রতি ঘরে ঘরে।

অবশ্য আসিবে কৃষ্ণ দুর্গ উৎসব দিনে।

কার্তিকে কাননে বন্ধু চরাইত ধেনু।

শ্রীরাধার নাম লইয়া বাজাইত বেণু॥

অগ্রহায়নে নব অন্ন খায় প্রতি ঘরে ঘরে॥

মম ঘরে কৃষ্ণ নাই কেবা বংশী ধরে।

পৌষ মাসে পঞ্চম তিথি চিঠি লিখে আপন হস্তে॥

পত্র পাইয়া ব্রজনাথ অবশ্য আসিবে ব্রজেতে।

শ্রীরাধার বার মাস হইল সমাপন।

প্রেমানন্দে হরি হরি বল যত ভক্তগণ॥

শ্রীরাধার বার মাস যে করে কীর্ত্তন।

অনায়াসে পায় সে শ্রীরাধা গোবিন্দের চরণ॥

শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য, প্রভু নিত্যানন্দ।

হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধে গোবিন্দ॥

জয় রাধে গোবিন্দ গোপাল শ্যাম।

জয় জয় শ্রীরাধা মাধব শ্রীরাধিকার নাম॥