শ্রী রাধা কৃষ্ণের প্রণাম
১০৮ নাম, চৌত্রিশ পদাবলী ও শুক শারীর দ্বন্দ্ব —
ভক্তি ভরে শ্রীকৃষ্ণের নাম সংকীর্তন
১০৮ নাম
জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর ।
কৃষ্ণ চন্দ্র কর দয়া করুণা সাগর॥
জয় রাধে গোবিন্দ গোপাল বনমালী ।
শ্রীরাধার প্রাণধন মুকুন্দ মুরারী॥
হরিনাম বিনের ভাই গোবিন্দ নাম বিনে ।
বিফলে মনুষ্য জন্ম যায় দিনে দিনে॥
দিন গেল মিছে কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে ।
না ভজিনু রাধাকৃষ্ণের চরণারবিন্দে॥
কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু ।
মিছে মায়ায় বন্ধ হ'য় বৃক্ষসম হৈনু॥
ফলরূপে পুত্র কন্যা ডাল ভাঙ্গি পড়ে ।
কালরূপে সংসারেতে পক্ষী বাসা করে॥
যখন কৃষ্ণ জন্ম নিলেন দেবকীর উদরে ।
মথুরাতে দেবগণ পুষ্প বৃষ্টি করে॥
বসুদেব রাখি আইল নন্দের মন্দিরে ।
নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে॥
নামের মাহাত্ম্য
দৈত্যারী দ্বারিকা নাথ দারিদ্র-ভঞ্জন।
দয়াময় দ্রৌপদীর লজ্জা নিবারণ॥
স্বরূপে সবার হয় গোলকেতে স্থিতি।
বৈকুণ্ঠে ক্ষীরোদশারী কমলার পতি॥
রসময় রসিক নাগর অনুপম।
নিকুঞ্জ বিহারী হরি নব ঘনশ্যাম॥
শালগ্রাম দামোদর শ্রীপতি শ্রীধর।
তারকব্রহ্ম সনাতন পরম ঈশ্বর॥
কল্পতরু কমল লোচন হৃষিকেশ।
পতিত পাবন গুরু জ্ঞান-উপদেশ॥
চিন্তামনি চতুর্ভুজ দেবচক্র পানি।
দীনবন্ধু দেবকী নন্দন যদু মনি॥
অনন্ত কৃষ্ণের নাম অনন্ত মহিমা।
নারদাদি ব্যাসদেব নিতে নারে সীমা॥
নাম ভজ নাম চিন্তা নাম কর সার।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম মহিমা অপার॥
শতবার সুবর্ণ গো কোটি কন্যাদান।
তথাপি না হয় কৃষ্ণ নামের সমান॥
যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।
নামের সহিত আছেন আপনি শ্রীহরি॥
শুন শুন ওরে ভাই নাম সংকীর্তন।
যেই নাম শ্রবণে হয় পাপ বিমোচন॥
কৃষ্ণ নাম ভজ ভাই আর সব মিছে।
পলাইতে পথ নাই যম আছে পিছে॥
কৃষ্ণ নাম হরিনাম বড়ই মধুর।
যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর॥
ব্রহ্মা আদি দেব যারে ধ্যানে নাহি পায়।
সে হরি বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়॥
হিরণ্য কশিপুর উদর-বিদারন।
প্রহলাদরে করিল রক্ষা দেব নারায়ণ॥
বলীরে ছলিতে প্রভু হইল বামন।
দৌপদীর লজ্জা 'হরি' কৈল্য নিবারণ॥
অষ্টোত্তর শতনাম যে করে পঠন।
অনায়াসে পায় সে রাধা কৃষ্ণে চরণ॥
ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণ করে নন্দের নন্দন।
মথুরায় কংশ ধ্বংস লঙ্কার রাবণ॥
বকাসুর বধ আদি কালিয়া-দমন।
নরোত্তম কহে এই নাম সংকীর্তন॥
শ্রীনরোত্তম দাস
চৌত্রিশ পদাবলী যে করে কীর্ত্তন।
দাস নরোত্তম যাচে তাহার চরণ॥
শুক ও শারীর বিতর্ক
বৃন্দাবন বিলাসিনী রাই আমাদের,
রাই আমাদের, রাই আমাদের॥
আমরা রাইয়ের, রাই আমাদের।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণ মদন মোহন॥
শারী বলে, আমার রাধা বামে যতক্ষণ।
নৈলে শুধুই মদন।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণ গিরি ধরে ছিল।
শারী বলে, আমার রাধা শক্তি সঞ্চারিল,
নৈলে পারবে কেন।
শুক বলে; আমার কৃষ্ণের চূড়ায় ময়ূর পাখা,
শারী বলে, আমার রাধার নামটি তাতে লেখা।
ঐ যে যার গো দেখা।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণের চূড়া বামে হেলে,
শারী বলে, আমার রাধার চরণ পাবে বলে,
চূড়া তাইতো বামে হেলে॥
শুক বলে আমার কৃষ্ণ যশোদার জীবন॥
শারী বলে আমার রাধা জীবনের জীবন
নৈলে শূন্য জীবন।
শুক বলে আমার কৃষ্ণ জগৎ-চিন্তামণি।
শারী বলে, আমার রাধা প্রেম প্রদায়িনী
সে তোমার কৃষ্ণ জানে।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণের বাঁশী করে গান।
শারী বলে, সত্য বটে বলে রাধার নাম,
নৈলে মিছাই গান।
শুক বলে; আমার কৃষ্ণ জগতের গুরু
শারী বলে, আমার রাধা বাঞ্ছা কল্পতরু,
নৈলে কে কার গুরু।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণ প্রেমের ভিখারী
শারী বলে, আমার রাধা প্রেমের লহরী।
প্রেমের ঢেউ কিশোরী।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণের কদম তলায় থানা
শারী বলে, আমার রাধা করে আনা গোনা।
নৈলে যেতো না জানা।
শুক বলে আমার কৃষ্ণ জগতের কালো।
শারী বলে, আমার রাধার রূপে জগৎ আলো।
নৈলে আঁধার কালো।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণের শ্রীরাধিকা দাসী।
শারী বলে, সত্য বটে সাক্ষী আছে বাঁশী,
নৈলে হতো কাশী বাসী।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণ করে বরিষণ।
শারী বলে, আমার রাধা স্থগিত পবন,
সে যে স্থির পবন।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণ জগতের জীবন।
শারী বলে, আমার রাধা জীবনের জীবন,
নৈলে কে কার জীবন, থাকে কি আপন প্রাণ।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণ জগত জীবন।
শারী বলে, আমার রাধা মধুর পবন,
নৈলে কি থাকে জীবন।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণ গায় প্রেম গান।
শারী বলে, আমার রাধা প্রেম করে দান,
সে যে কৃষ্ণ জীবন।
শুক সারী উভয়ের দ্বন্দ্ব মিঠে গেল।
রাধা কৃষ্ণ প্রীতে একবার হরি হলি বল,
শ্রীবৃন্দাবনে চল।
শ্রীশ্রী রাধারানীর আক্ষেপ
মাঘেতে মাধব করে মথুরা গমন,
কৃষ্ণ বিনে অন্ধকার নব বৃন্দাবন।
ফাল্গুনে পূর্ণমা তিথি চিত্তে উঠে রোল,
গোবিন্দ কোকুলে নাই কে করিবে দোল।
চৈত্রেতে চাতক পাখী বসে শ্রীমন্দিরে,
পিউ পিউ রবে ডাকে উচ্চৈঃস্বরে।
বৈশাখতে বিদেশে রব শ্যাম গুণমণি,
আঙ্গিনায় কৃষ্ণ নাই কেবা খাবে লবণী।
জ্যৈষ্ঠতে যমুনার জলে, করে জল কেলি,
কার অঙ্গে দিব জল অঞ্জলি অঞ্জলি।
আষাঢ়ে আসিবে বন্ধু এই ছিল মনে,
কেমনে বাঁচিবে বল গোবিন্দ বিহনে।
শ্রাবণে পূর্ণিমা তিথিতে ঝুলন উৎসবে,
গোকুলে আসিবে কৃষ্ণ আশা ছিল মনে।
ভাদ্র মাসেতে ভরানদী অকুল পাথার,
কেমনে আসিবে প্রাণনাথ না জানে সাঁতার।
আশ্বিন মাসে অম্বিকা পূজা প্রতি ঘরে ঘরে।
অবশ্য আসিবে কৃষ্ণ দুর্গ উৎসব দিনে।
কার্তিকে কাননে বন্ধু চরাইত ধেনু।
শ্রীরাধার নাম লইয়া বাজাইত বেণু॥
অগ্রহায়নে নব অন্ন খায় প্রতি ঘরে ঘরে॥
মম ঘরে কৃষ্ণ নাই কেবা বংশী ধরে।
পৌষ মাসে পঞ্চম তিথি চিঠি লিখে আপন হস্তে॥
পত্র পাইয়া ব্রজনাথ অবশ্য আসিবে ব্রজেতে।
শ্রীরাধার বার মাস হইল সমাপন।
প্রেমানন্দে হরি হরি বল যত ভক্তগণ॥
শ্রীরাধার বার মাস যে করে কীর্ত্তন।
অনায়াসে পায় সে শ্রীরাধা গোবিন্দের চরণ॥
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য, প্রভু নিত্যানন্দ।
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধে গোবিন্দ॥
জয় রাধে গোবিন্দ গোপাল শ্যাম।
জয় জয় শ্রীরাধা মাধব শ্রীরাধিকার নাম॥